পাঁচ মাসে প্রথমবারের মতো বাণিজ্য উদ্বৃত্তের দেখা পেয়েছে জাপান। দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নভেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ২৩০ কোটি ইয়েনে (২০০ কোটি ডলার)। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়ায় জাপানের বাণিজ্য পরিস্থিতিতে এ ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আনাদোলু।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট রফতানি নভেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭১ হাজার কোটি ইয়েনে (৬ হাজার ২৬০ কোটি ডলার)। এটি টানা তৃতীয় মাসের মতো রফতানি বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে এশিয়ার বাজারে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের রফতানি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধপণ্যের রফতানিও বেড়েছে।
অন্যদিকে জাপানে নভেম্বরে আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৯ হাজার কোটি ইয়েনে (৬ হাজার ৫০ কোটি ডলার)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ইঞ্জিন আমদানি ও এশিয়া থেকে সেমিকন্ডাক্টর চিপ আমদানির কারণে আমদানি বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের রফতানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ইয়েন (১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার)। এর মধ্যে গাড়ি রফতানি বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। গত মার্চের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে জাপানের গাড়ি রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
মেইজি ইয়াসুদা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ তাকাফুমি ফুজিতা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব পুরোপুরি দূর না হলেও নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি রফতানির প্রবৃদ্ধি কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮০ কোটি ইয়েনে (৪৭০ কোটি ডলার), যা সাত মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাপানের আমদানি বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
এর আগে জুলাইয়ে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা সেপ্টেম্বরে কার্যকর হয়েছে।